শিক্ষার্থীদের ভাবনায় সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ দিবস

সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ যাত্রা শুরু করেছিল ১৯৪৯ সালে। কলেজের শিক্ষকদের প্রতি শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। উনাদের ছায়ায় শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ পেয়ে আমি খুবই আনন্দিত। সোহরাওয়ার্দী কলেজ প্রতিভা বিকাশের এক অন্যতম মাধ্যম। পড়াশোনার পাশাপাশি বিভিন্ন বিষয়ে শিক্ষার্থীদের পারদর্শী হতে সহায়তা করে। আমি প্রতিভা বিকাশের সুযোগ পেয়েছি এবং সম্মানিত অধ্যক্ষ মহোদয়ের নিকট হতে পুরস্কার গ্রহণ করেছি। কলেজের হল, বাস, ক্যান্টিনের ব্যবস্থা করা হবে প্রত্যাশা রাখি। এগুলো খুবই প্রয়োজনীয় এবং কলেজকে আকর্ষণীয় করতে ভূমিকা রাখবে।
কলেজের পলেস্তারা খসে পড়ে শিক্ষার্থীরা আহত হচ্ছে। কলেজের ক্যাম্পাস ছোট হওয়ায় কোনো অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হলে জায়গার সংকট দেখা দেয়। দ্রুত এ বিষয়ে নজর দেওয়া উচিত।
অদিতি শামসী,বাংলা বিভাগ (২০২০-২১)

কলেজ প্রতিষ্ঠার “৭৪” বছরে এসেও আমাদের পাওয়া না পাওয়ার হিসেব অনেক। রাজধানীর অন্যান্য কলেজের সাথে আপনি তুলনা করলে দেখবেন, আমার ক্যাম্পাস কোন দিক থেকে এগিয়ে? কয়েকদিন আগে একটি সংস্থার প্রতিবেদনে আমাদের কলেজের অবস্থান ছিল “সি” গ্রেড যাহ আমাদের জন্য লজ্জাকর।
আশা করি, ‘প্রাতিষ্ঠানিক ও শিক্ষাব্যবস্থার’ দিকটার উন্নয়ন আমাদের খুব দরকার। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে আমার চাওয়া একটাই একজন শিক্ষার্থী হিসেবে আমার ক্যাম্পাস থেকে যা পাওয়ার অধিকার তা যেন আমি পায়। কলেজ প্রশাসনের সেই দিকগুলো খেয়ালে রাখা প্রয়োজন ।
পুরান ঢাকার এই ‘লাল ইটের বাতিঘর’ আমার শেষ আশ্রয়স্থল। আমার আগামীর ভবিষ্যৎ গড়ার অন্যতম বাহন। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বিনম্র শ্রদ্ধা যারা কলেজটি প্রতিষ্ঠা করেছন এবং সেই থেকে এই পর্যন্ত কলেজটির আধুনিকরণ রূপ দেওয়ার জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছে। আর শিক্ষার্থী গড়ার কারিগর হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে প্রিয় শিক্ষক’রা যাদের অবদান অনস্বীকার্য। তাদের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা ।
ফাইজুর রহমান ফায়েল , রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ(২০২২-২৩)

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর এবার স্কুল জীবনকে বিদায় জানিয়ে কলেজে ওঠার পালা। নতুন বছরে নতুন পড়াশোনার জগতে প্রবেশে উৎসাহের যেন শেষ নেই। ইতোমধ্যে পছন্দের কলেজে সুযোগ পেয়ে দিন গুনতে শুরু করেছে অনেকেই। এ সময়টা যেমন আনন্দের, স্বপ্নের, তেমনি উদ্বেগেরও। কারণ উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের পড়াশোনার ওপর নির্ভর করে বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের প্রস্তুতি। তাই জীবনের লক্ষ্যকে বাস্তবে রূপ দিতে এ সময়টা নিজেকে সাজাতে হবে নতুন আঙ্গিকে, নতুন উদ্যমে।
আমাদের এই সরকারি শহীদ সোহাওয়ার্দী কলেজ অত্যন্ত সুন্দর একটি কলেজ । অত্যন্ত মনোরম পরিবেশ রয়েছে। কিন্তু এখানে আরেকটি ভোগান্তিও আছে। যেমন : সোহরাওয়ার্দী কলেজে বাস না থাকায় যাতায়াতের জন্য চরম দূর্ভোগের মধ্যে পড়তে হয় শিক্ষার্থীদের। দূর-দূরান্ত থেকে ছাত্র- ছাত্রীরা ক্লাস করতে এসে চরম দূর্ভোগের শিকার হয় ।
আতিক হাসান অনিক, মানবিক বিভাগ , সেশন:২০২৩-২০২৪।

১১ই নভেম্বর ৭৪ বছরে পদার্পণ করলো আমার প্রিয় ক্যাম্পাসটি, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর প্রাণঢালা শুভেচ্ছা। লাল ইটের বাতিঘর এই ক্যাম্পাসটি নিয়ে আমার গর্ব আর বড়াইয়ের শেষ নাই, নিজের প্রিয় ক্যাম্পাস বলে কথা। কিন্তু তারপরও বাস্তবতা নিয়ে ভাবলে কষ্ট লাগে খুব! ১৯৪৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হওয়া একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার প্রায় ৭৪ বছরেও হল, বাস, মেডিকেল সেন্টারে পর্যাপ্ত সরঞ্জাম, নিজস্ব ক্যান্টিনের মত নিত্যপ্রয়োজনীয় অত্যাব্যকীয় সুবিধাসমূহ হতে বঞ্চিত।
কলেজের প্রবেশপথে পুরনো বিবর্ণ নেইমপ্লেট থেকে নিয়ে শুরু করে প্লাস্টার নষ্ট হয়ে যাওয়া জীর্ণ দেয়াল সব কিছুতেই অবহেলার স্পষ্ট ছাপ! যা সত্যি একজন শিক্ষার্থী হিসেবে আমার মনকে ব্যাথিত করে। তাই আজ প্রিয় বিদ্যাপীঠের জন্মদিনে সাধারণ শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি হয়ে আমি এই প্রত্যাশা ব্যাক্ত করি যে, কলেজ কর্তৃপক্ষ, সাধারণ শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং সংশ্লিষ্ট সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় হল, বাস, ক্যান্টিন সহ অন্যান্য অত্যাবশকীয় ব্যাপারে গুরত্বপূর্ন এবং যুগোপযোগী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে। সকলের সম্মিলিত ও ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা এবং সদিচ্ছাই পারে কেবল কলেজে একটি সুষ্ঠু এবং শিক্ষাবান্ধব সুন্দর পরিবেশ গড়তে পারে।
সাগির হোসেন, হিসাববিজ্ঞান বিভাগ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *