নৌকার বিরুদ্ধে সারা দেশে ‘দলীয়’ স্বতন্ত্র! 

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে আওয়ামী লীগ। ৩০০ আসনের মধ্যে ২৯৮ আসনে একজন করে প্রার্থী দিয়েছে দলটি। বিগত জাতীয় নির্বাচনে নৌকার প্রার্থীকে বিজয়ী করার কড়া নির্দেশনা থাকলেও এবার তার বিপরীত নির্দেশনা রয়েছে দল থেকে। স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে ইচ্ছুকদের নির্বাচনে উৎসাহিত করা হচ্ছে এবার।

একাধিক আওয়ামী লীগ নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, নির্বাচনকে প্রতিযোগিতামূলক করতে দলের হাইকমান্ড স্বতন্ত্র প্রার্থীদের সহযোগিতার নিদের্শ দিয়েছেন। আবার দলের কেউ স্বতন্ত্র প্রার্থী হলে তাতেও আপত্তি নেই, নেওয়া হবে না কোনো ব্যবস্থাও। হাইকমান্ডের এমন নিদের্শনায় ভরসা পেয়ে নির্বাচনের ঘোষণা দিচ্ছেন অনেক নেতা। ইতোমধ্যে নৌকার বিরুদ্ধে লড়তে প্রস্তুতি গ্রহণ করেছেন বহু আওয়ামী লীগ নেতা। কেউ কেউ আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা দিয়েছেন, আবার কেউ কেউ মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করে রেখেছেন। সারা দেশের প্রতিটি আসনেই স্বতন্ত্র প্রার্থীর ছড়াছড়ি হতে পারে এবার।

আগামী ৩০ নভেম্বর জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন। আওয়ামী লীগ ইতোমধ্যে দলীয় প্রার্থীদের মনোনয়ন ঘোষণা করেছে। তবে জোটের সঙ্গে অনেক হিসাব-নিকাশ বাকি রেখেছে দলটি। কারো সঙ্গে জোট করবে নাকি এককভাবে সব দলকে নির্বাচনের সুযোগ দেবে, সেটা নিয়ে এখন চলছে দর কষাকষি। আওয়ামী লীগ যদি জোটে নির্বাচন করে তাহলে অনেক আসনে নৌকার প্রার্থীর কপাল পুড়তে পারে।

আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে— শেষ পর্যন্ত যদি ১৪ দলীয় জোটের সঙ্গে কৌশলগত ঐক্য হয় তাহলে বেশ কিছু আসন ছেড়ে দিতে হবে। যেমন, রাশেদ খান মেননের জন্য কোনো আসন রাখা হয়নি। যদি জোট হয় তাহলে তাকে একটি আসন দিয়ে দেওয়া হবে। এভাবে জোটের অন্য বড় নেতাদের জন্যেও আসন ছাড়তে হবে আওয়ামী লীগকে।

এদিকে নৌকার মাঝি হতে পারেননি এমন অনেক হেভিওয়েট রাজনীতিবিদ স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়েছেন। ইতোমধ্যে অনেকে মনোনয়নপত্রও নিয়েছেন। সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ নির্বাচন হলে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের অনেকে বিজয়ী হবেন বলে মনে করছে আওয়ামী লীগের তৃণমূল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *