মণিরামপুর থানার সেকেন্ড অফিসার হামলার শিকার ব্যবসায়ীদের মাঝে গ্রেফতার আতংক

মণিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি :

যশোরের মণিরামপুরে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন থানার সেকেন্ড অফিসার এস আই আবু বক্কর। এ ঘটনায় পুলিশ প্রশাসনের উর্ধতন মহল বিষয়টি গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখতে শুরু করেছেন। এমনকি সাধারণ জনগণকে বিষয়টি নিয়ে ভাবিয়ে তুলেছেন। এ ঘটনার সাথে জড়িত সকলকে আটকের দাবি উঠেছে। অপরদিকে প্রচার চলছে এক বিশিষ্ট কাপড় ব্যবসায়ীকে দারোগা খুশি করতে গিয়ে জনগনের রোষানলে পড়ে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে।

জানাগেছে, সোমবার রাতে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে কাপুড়িয়া পট্টির এক ব্যবসায়ী এসআই আবুবকর’কে মারপিট করে শরীরের কাপড়চোপড় টেনেহিঁচড়ে ছিড়ে দিয়ে লাঞ্ছিত করে। যারা যান-মালের নিরাপত্তা দেয় খোদ সেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একজন সদস্যকে এভাবে লাঞ্ছিত করা আদৌও সমুচিন হয়েছে কিনা বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। মণিরামপুরের এক শ্রেণির সুধীজন ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে হামলাকারীদের সকলকে আটকের জোরালো দাবি তুলেছেন। যে বিষয়টি সোসাল মিডিয়া ফেসবুকে বহুল প্রচার চলছে।

এদিকে কাপড় পট্টির একাংশ ও একাধিক জনপ্রতিনিধি দাবি করেছেন মোশাররফ হোসেন নামে একজন ব্যক্তিকে খুশি করতে গিয়ে জনগনের রোষানলে পড়ে এসআই আবুবকর লাঞ্ছিত হয়েছেন। বর্তমানে এ ঘটনা নিয়ে কাপুড়িয়া পট্টির ব্যবসায়ীদের মাঝে মিথ্যা মামলা ও গ্রেফতার আতংক বিরাজ করছে।

তবে, অনেকেই ধারনা করছেন এ ঘটনার মধ্যে কোন রহস্য লুকায়িত রয়েছে। তার কারন হিসেবে জানা গেছে যাকে কেন্দ্র করে পুলিশ সদস্যর উপর হামলা হয়েছে তার সাথে পুলিশ কর্মকর্তার দীর্ঘদিনের একটা সখ্যতা রয়েছে। ফলে আসল রহস্য উদঘাটনের দাবি তুলেছেন জনপ্রতিনিধিসহ কতিপয় ব্যবসায়ী। বিষয়টি সুষ্ঠ তদন্তের জন্য প্রশাসনের মধ্যে জোর তৎপরতা চলছে। এ বিষয়ে থানার অফিসার ইনচার্জের কোন মতামত পাওয়া যায়নি।
এদিকে হামলার ঘটনার পর কাপুড়িয়া পট্টির ব্যবসায়ী মোজাফফর হোসেনসহ তিনজনকে পুলিশ আটক করেছেন। লাঞ্ছিত কর্মকর্তার দাবি তার (মোজাফফর) এর নেতৃত্বে এ হামলা চালানো হয়েছে। জানা গেছে কিছুদিন পূর্বে এই ব্যবসায়ী তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের কারনে অপহরণেরও শিকার হন।

অপর দিকে, পৌর শহরে জনসাধারণের মাঝে চাউর উঠেছে, এসআই আবুবকরও বিনা অপরাধে অহেতুক অজুহাত খাড়া করে মণিরামপুর প্রেসক্লাবের এক সম্মানিত ব্যক্তিকে থানার মধ্যে হামলার চেষ্টা করেন। যা নিয়ে সাংবাদিক সমাজ ইলেকট্রনিক, প্রিন্ট মিডিয়া, অনলাইন নিউজ পোর্টাল ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে বহুল শিরোনামসহ একাধিক কর্মসূচি ঘোষণা করলেও তাকে মণিরামপুর থেকে প্রত্যাহার না করে বহাল তবিয়তে রেখে দেওয়া হয়। যে কারনে তিনি আরও বেপরোয়াভাবে চলাফেরা শুরু করেন বলে একাধিক ব্যক্তি অভিযোগ তুলেছেন।

তবে, এসআই আবুবকর-এর সাথে সাংবাদিকের ঘটে যাওয়া সকল ঘটনা মিমাংসা হয়েছে গেছে বলে তিনি দাবি করেছেন।

মণিরামপুর থানার দারোগার উপর হামলার এ ঘটনায় তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে বলে থানা সূত্রে জানা গেছে। রিপোর্ট লেখার আগ পর্যন্ত থানায় কোন মামলা হয়নি। তবে, মামলার প্রস্তুতি চলছিলো।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *